লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে বাড়ি থেকে খেলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরে মঙ্গলবার ভোররাতে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নন্দিনী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেলে বাড়ির বাইরে খেলতে যাওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না মেলায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি একটি বস্তার ভেতরে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিধান (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
নন্দিনীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
