মিরপুরে দুর্দান্ত জয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ডিএলএস (DLS) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয় তুলে নেয় টাইগাররা। ব্যাট হাতে মোসাদ্দেক হোসেনের অসাধারণ ইনিংস এবং পরে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে সহজেই পরাস্ত করে স্বাগতিকরা।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।
ইনিংসের শুরুতে দ্রুত একটি উইকেট হারানোর পর তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে স্থিতিশীলতা এনে দেন। তানজিদ ৫৪ রান এবং শান্ত ৬৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে মধ্যভাগে কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেন। দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডে দলে ফিরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেন তিনি। ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকান এই অলরাউন্ডার। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের দ্রুত ২০ রান বাংলাদেশের সংগ্রহকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ম্যাট রেনশও দুটি উইকেট নিলেও ফিল্ডিংয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় বড় মূল্য দিতে হয় সফরকারীদের।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথিউ শর্টকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে স্বপ্নের সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর মুস্তাফিজুর রহমান এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মার্নাস লাবুশেনকে।
এরপর গতি ঝড় তোলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ধারাবাহিক বোলিং করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। জশ ইংলিস, অ্যালেক্স কেরিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যাটারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি।
অন্যদিকে মোসাদ্দেক হোসেন বল হাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। একপ্রান্তে ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ৫২ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্যপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতনের কারণে ম্যাচে ফিরতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
বৃষ্টির কারণে লক্ষ্য সমন্বয় করা হলেও প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমশ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তুলতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ব্যাট ও বল হাতে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মোসাদ্দেক হোসেন। তার অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসের পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট ছিল দলের জয়ের অন্যতম ভিত্তি।
এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। প্রায় দেড় দশক পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে এমন শুরু স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস বাড়াবে টাইগারদের। বিশেষ করে ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সাফল্যের সঙ্গে এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিবাচক অগ্রযাত্রার আরেকটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকল।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন এবং তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ ১৪ জুন। এখন বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
