বোয়ালখালীতে হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর ভয়ংকর হামলা, মরিচের গুঁড়া ছুড়ে লুট নগদ টাকা ও মোবাইল

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন স্থানীয় ব্যবসায়ী গৌতম চৌধুরী। হামলাকারীরা তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী গৌতম চৌধুরী (৪৬) উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারের ‘লোকনাথ ক্লথ স্টোর’-এর মালিক এবং একজন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট। তিনি সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাবাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন গৌতম চৌধুরী। গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে হাঁটার সময় দুর্গাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন স্থানে ওত পেতে থাকা দুই যুবক তার ওপর হামলা চালায়।

প্রথমে হামলাকারীরা শক্তিশালী টর্চলাইটের আলো ফেলে তার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। এরপর মুখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে তাকে অসহায় অবস্থায় ফেলে। পরে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে তার কাছে থাকা নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরদিন বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গৌতম চৌধুরী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করলেও এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হননি। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

বোয়ালখালী থানার ওসি মো. মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি সাধারণ ছিনতাই নাকি পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে চালানো হামলা। কারণ গৌতম চৌধুরী একজন পরিচিত ব্যবসায়ী এবং মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট হওয়ায় তার কাছে নগদ অর্থ থাকার বিষয়টি অনেকেরই জানা ছিল। ফলে হামলাকারীরা আগে থেকেই তথ্য নিয়ে ওত পেতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের কৌশল অপরাধীদের একটি পরিচিত পদ্ধতি। এতে ভুক্তভোগী সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, ফলে দ্রুত ছিনতাই করা সহজ হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অতীতেও একই ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ টহল বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় ঘটনাটি স্থানীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে এটি সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা নাকি শুধুই অর্থ লুটের জন্য সংঘটিত অপরাধ—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা গেলে জনমনে আস্থা ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে।