বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় পরপর তিনটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের কানছগাড়ি এলাকায় অবস্থিত তিনটি মন্দিরে প্রতিমাগুলো ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
একই এলাকায় তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানছগাড়ি মহাশ্মশানের শিব মন্দির, শীতলা মন্দির এবং কালী মন্দিরে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালায়। সকালে পূজা দিতে গিয়ে ভক্তরা প্রতিমাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদকে জানানো হয়।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে প্রশাসন
খবর পেয়ে মোকামতলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো ঘুরে দেখেন এবং মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ
মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্বেগ
ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা শুধু স্থাপনার ক্ষতিই নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। তাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
স্থানীয় সনাতনী নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। তাই এ ধরনের ঘটনা যেন সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন এলাকাবাসী ও সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
