২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত সূচনা করেছে জার্মানি। গ্রুপ ‘ই’-এর প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপের নবাগত দল কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা।
গোল উৎসবে জার্মানির দাপট
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। ষষ্ঠ মিনিটেই প্রথম গোল পায় দলটি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাল খুঁজে নেন ফেলিক্স এনমেচা। তবে ম্যাচের ২১তম মিনিটে কুরাসাও সমতায় ফিরে আসে। লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড গড়েন।
সমতায় ফেরার পর কিছুক্ষণ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেললেও জার্মানির চাপে টিকতে পারেনি কুরাসাও। ৩৮তম মিনিটে নিকো শ্লটারবেকের হেডে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান কাই হাভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধে একতরফা ম্যাচ
বিরতির পর আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয় জার্মানি। ৪৭তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালা গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন। এরপর নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উন্দাভও গোলের তালিকায় নাম লেখান। ম্যাচের শেষদিকে কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানির সপ্তম গোল নিশ্চিত করেন।
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল জার্মানদের। পরিসংখ্যানেও সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ইউরোপের অন্যতম সফল দলটি।
কুরাসাওয়ের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত
যদিও বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে, তবুও কুরাসাওয়ের জন্য ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি নিজেদের প্রথম গোলটি করতে সক্ষম হয়েছে। ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সমর্থকদের জন্য এটি ছিল গর্বের একটি মুহূর্ত।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ৪৮ দলের আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে কুরাসাও অন্যতম। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হারলেও তাদের লড়াই এবং সাহসী মনোভাব অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জার্মানির সামনে কঠিন পরীক্ষা
প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেলেও জার্মানির জন্য আসল চ্যালেঞ্জ এখনো বাকি। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্টের। সেই ম্যাচে জার্মানির প্রকৃত সামর্থ্যের আরও বড় পরীক্ষা হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার হতাশা কাটিয়ে এবার নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছে জার্মানি। কাই হাভার্টজ, জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজদের পারফরম্যান্স দলটির সমর্থকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
বিশ্বকাপে শক্ত বার্তা
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছেও শক্ত বার্তা পাঠিয়েছে জার্মানি। আক্রমণভাগের ধার, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং দলগত সমন্বয় দেখে অনেকেই তাদের সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছেন।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ যাত্রা এখনো বাকি থাকলেও প্রথম ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স জার্মান শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না।
