আফগানিস্তান ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক এই ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে দিল্লি অভিযোগ করেছে, ইসলামাবাদ ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বথানেনি হরিশ বলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানে পরিচালিত সামরিক অভিযানের বাস্তব চিত্র আড়াল করতে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে। তার দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
আফগানিস্তানে হামলা নিয়ে ভারতের কড়া সমালোচনা
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পরিচালিত বিমান হামলায় বহু নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দিল্লির দাবি, বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু কিংবা শিশুদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়াকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা যায় না।
রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে ভারত আরও অভিযোগ করে, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় সংহতির কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরে ইসলামাবাদের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়।
‘ধর্মীয় আবরণের আড়ালে অপপ্রচার’
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে ভারতের সমর্থিত বলে দাবি করেছে। এসব অভিযোগের জবাবে ভারত জানিয়েছে, কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা পাকিস্তানের পুরোনো কৌশল।
দিল্লির মতে, ধর্মীয় শব্দ ও আবেগকে ব্যবহার করে পাকিস্তান নিজেদের নাগরিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ভারতের অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতেই এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
চলতি বছরের শুরু থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত অঞ্চলে সংঘর্ষ ও সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।
ভারত বরাবরই আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক আলোচনাতেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দিল্লি বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংলাপ, সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রসংঘে ভারতের এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনও আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামনে চলে এসেছে।
