জার্মান ফুটবল দলের প্রতি অসাধারণ ভালোবাসার নজির স্থাপন করেছেন মাগুরার এক কৃষক। নিজের উদ্যোগে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির জাতীয় পতাকা তৈরি ও প্রদর্শন করে আবারও আলোচনায় এসেছেন মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন।
বুধবার সকালে মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল মাঠে এই ব্যতিক্রমী পতাকা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। বিশাল আকৃতির পতাকাটি দেখতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ মাঠে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
জার্মানির প্রতি ভালোবাসা থেকেই ব্যতিক্রমী আয়োজন
অনুষ্ঠানে আমজাদ হোসেন জানান, জার্মান ফুটবল দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থেকেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তার বিশ্বাস, ফুটবল বিশ্বে জার্মানির সাফল্য এবং ঐতিহ্য তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বিশ্বকাপে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি আরও বড় আয়োজন করবেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা তৈরি করে মাগুরার ভায়না থেকে সীমাখালী পর্যন্ত সড়কজুড়ে প্রদর্শনের ইচ্ছা রয়েছে তার।
কৃষক আমজাদের জার্মানি-ভক্ত হওয়ার গল্প
মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের নেহাল উদ্দিন মোল্যার ছেলে আমজাদ হোসেন পেশায় একজন কৃষক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার পর জার্মানির একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সুস্থতা ফিরে পান বলে তিনি দাবি করেন।
সেই ঘটনার পর থেকেই জার্মানি এবং দেশটির ফুটবল দলের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে, যা এখন বড় বড় পতাকা তৈরির মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগে রূপ নিয়েছে।
পতাকা তৈরিতে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ টাকা
আমজাদ হোসেন জানান, সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পতাকা তৈরিতে তার প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয় মেটাতে তিনি নিজের কিছু জমিও বিক্রি করেছেন বলে জানান।
তার মতে, এটি কোনো ব্যক্তিগত লাভের বিষয় নয়; বরং প্রিয় ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ থেকেই তিনি এমন আয়োজন করে থাকেন।
আগেও আলোচনায় এসেছিলেন আমজাদ
এটি আমজাদ হোসেনের প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নয়। ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির জাতীয় পতাকা তৈরি করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।
ওই বিশ্বকাপে জার্মানি শিরোপা জয়ের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তাকে জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্যপদও দেওয়া হয়।
বিশ্বকাপ ঘিরে তার নানা ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফুটবলপ্রেমী এই কৃষকের জার্মানির প্রতি অনুরাগ এখন অনেকের কাছেই এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
