পাবনা জেলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের শরীরে এইচআইভি (HIV) শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন সমকামী বলে জানিয়েছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কী পপুলেশনস (কেপি) সেন্টার।
বুধবার (১৭ জুন) পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার ও এইচআইভি: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় উঠে এলো জেলার এইচআইভি পরিস্থিতির চিত্র
কর্মশালায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কেপি সেন্টারের ফোকাল পার্সন ডা. মনিরুজ্জামান এবং সেন্টার ম্যানেজার ডা. আহসানুল কবির জেলার এইচআইভি সংক্রমণ পরিস্থিতি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
ডা. মনিরুজ্জামান জানান, পাবনায় শিরায় মাদক গ্রহণকারী, নারী যৌনকর্মী, পুরুষ যৌনকর্মী, সমকামী এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পরিসংখ্যান
কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পাবনা জেলায় বর্তমানে ১,৬১৫ জন সমকামী, ৭৬৫ জন নারী যৌনকর্মী, ৯০৮ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১১০ জন হিজড়া এবং ৪৮৪ জন শিরায় মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি চিহ্নিত রয়েছেন।
এছাড়া এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৭ জন সমকামী বলে জানানো হয়েছে।
সচেতনতা ও মানবাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব
কর্মশালায় বক্তারা এইচআইভি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, কোষাধ্যক্ষ প্রবীর কুমার সাহাসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
