গুজরাটের নভসারি জেলায় এক পার্সি নারীর মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় কোনো ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সহায়তায় মরদেহের অগ্নিসংস্কার সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী গত ৪ জুন ২০২৬ সন্ধ্যায় একটি পার্সি-পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অসুস্থতার কারণে তাঁকে স্বল্প সময় আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
পার্সি ও মুসলিম ধর্মীয় নিয়মে শেষকৃত্য অনিশ্চিত
নারীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী নিসার আহমেদ প্রথমে পার্সি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্যের জন্য আবেদন করেন। তবে আন্তধর্মীয় বিবাহ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে পার্সি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সেই অনুরোধ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ইসলামী রীতিতে দাফনের বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিনিধিরা জানান, যেহেতু ওই নারী জীবদ্দশায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি, তাই ইসলামী বিধান অনুযায়ী তাঁর দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
ফলে মরদেহ কয়েকদিন হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে এবং পরিবার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় বসে।
সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানবিক উদ্যোগ
পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এগিয়ে আসেন। পরিবারের পূর্ণ সম্মতির ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহের অগ্নিসংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।
নভসারির ভেরাভাল এলাকার একটি শ্মশানে সম্পূর্ণ সনাতনী রীতিনীতি অনুসরণ করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আত্মীয়স্বজনও উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে মরদেহের অস্থি ও ছাই স্বামী নিসার আহমেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আন্তধর্মীয় বিবাহ ও সামাজিক বাস্তবতা
জানা যায়, মৃত নারী গুজরাটের একটি শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং কলেজ জীবনে গুজরাটি সাহিত্যের অধ্যাপক নিসার আহমেদের সঙ্গে পরিচয়ের পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিবারে শুরুতে আপত্তি থাকলেও পরে তারা দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যান।
দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না বলে জানা গেছে। তবে তিনি জীবদ্দশায় নিজের পার্সি ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেছিলেন এবং ধর্মান্তরিত হননি।
ধর্মীয় বিধিনিষেধের বাইরে মানবিক সহযোগিতা
ঘটনাটি ধর্মীয় পরিচয়, আন্তধর্মীয় বিবাহ এবং মৃত্যুর পর শেষকৃত্য নিয়ে জটিল বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। পার্সি ও ইসলামী—দুই ধর্মীয় রীতির সীমাবদ্ধতার কারণে শুরুতে সংকট তৈরি হলেও পরিবারের সম্মতি ও স্থানীয় সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সমাধান হয়।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে এসে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগ এলাকায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করে। এতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেও জানা গেছে।
