বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয় দেব ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে বিশ্বমঞ্চে নতুন গৌরব অর্জন করেছেন। কানাডার টরোন্টোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী উৎসবে অংশ নিয়ে তিনি শুধু নিজের সাফল্যের গল্পই লেখেননি, বরং বাংলাদেশি প্রতিভার সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছেন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পারিবারিক শিকড় থাকা সঞ্জয় দেব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিক মিউজিক জগতে কাজ করে তিনি নিজস্ব একটি পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তার সঙ্গীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় এবং বাংলা সাংস্কৃতিক উপাদানের সৃজনশীল সংমিশ্রণ।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অফিসিয়াল মিউজিক প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের একজন হিসেবে সঞ্জয় দেবের নাম ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। টরোন্টোতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জনপ্রিয় শিল্পী নোরা ফাতেহি ও ভেজিড্রিমের সঙ্গে “Siir Siir” পরিবেশন করেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের সামনে এই পারফরম্যান্স ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেবের পোশাকেও ছিল বাংলাদেশের পরিচয়ের বিশেষ ছাপ। রয়েল বেঙ্গল টাইগার অনুপ্রাণিত ডিজাইন ও বাংলাদেশি ঐতিহ্যের প্রতীকী উপস্থাপনা তার উপস্থিতিকে আরও অর্থবহ করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার এই উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়।
বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোতে আয়োজিত হচ্ছে। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়। টরোন্টো সেগমেন্টে সঞ্জয় দেবের অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সঙ্গীত বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পারফর্ম করা যে কোনো শিল্পীর জন্য একটি বড় মাইলফলক। কারণ এ ধরনের অনুষ্ঠান কোটি কোটি মানুষের কাছে শিল্পীর পরিচিতি পৌঁছে দেয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সুযোগ তৈরি করে।
সঞ্জয় দেবের এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে সফল হওয়া সম্ভব—তার যাত্রা সেই বাস্তবতারই প্রমাণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি একটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও সফট পাওয়ার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেবের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বমানের মঞ্চে বাংলাদেশি শিকড়ের শিল্পীরাও সমানভাবে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। তার এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক বাংলাদেশি তরুণকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
