সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হলো মহারাষ্ট্র। আদালতে নিজের পক্ষে রায় পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শুধু স্থানীয় এলাকাতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নিহত জাফর কামারুদ্দিন সইয়দ প্যাটেল মহারাষ্ট্র জলসম্পদ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ছেলে আবদুল রহমানের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে একসময় নিজ বাড়ি ছেড়ে মেয়ের সঙ্গে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বৃদ্ধ।
পরবর্তীতে নিজের বাড়ির মালিকানা ও দখল ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হন জাফর প্যাটেল। প্রায় দুই বছর ধরে চলা মামলার পর সম্প্রতি আদালত তার পক্ষে রায় দেন এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় অভিযুক্ত ছেলেকে।
জানা গেছে, আদালতের রায়ের কপি সংগ্রহ করে মেয়ের সঙ্গে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন বৃদ্ধ। পথিমধ্যে অভিযুক্ত ছেলে তাদের গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশা থামিয়ে বাবাকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মেয়েও আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে ঘটে যাওয়া এই হামলায় গুরুতর আহত জাফর প্যাটেল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়।
আদালতের রায় ঘিরেই কি হত্যাকাণ্ড?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় আদালতের রায় বৃদ্ধের পক্ষে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালানো হতে পারে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ অনেক সময় ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়, যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন বয়স্ক বাবা-মায়েরা।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সম্পত্তির লোভের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য আইনি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
এদিকে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
