যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে বেকায়দায় নেতানিয়াহু, নতুন সংকটে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অভিঘাত দেখা যাচ্ছে ইসরায়েলে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির কাঠামো এবং আলোচনার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সীমিত ভূমিকা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।

কী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে?

ঘোষিত সমঝোতাটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং ভবিষ্যৎ পূর্ণাঙ্গ আলোচনার পথ তৈরি করা। চুক্তির আওতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পারমাণবিক ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন চাপে পড়েছেন নেতানিয়াহু?

ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবস্থান ছিল, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কিন্তু নতুন সমঝোতায় এসব বিষয় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর অন্যতম বড় কৌশল ছিল ইরানকে ঘিরে কঠোর আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখা। নতুন সমঝোতা সেই অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল কী?

মার্কিন প্রশাসন এই সমঝোতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। ওয়াশিংটনের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করছে।

ইরানের জন্য কী অর্থ বহন করে এই চুক্তি?

ইরানের জন্য এই সমঝোতা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা কমলে দেশটির অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে মতপার্থক্য এখনো বহাল রয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

এই শান্তি চুক্তি সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের মূল সংকটগুলো এখনো সমাধান হয়নি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা ভবিষ্যৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতি নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি গড়বে নাকি এটি কেবল একটি অস্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে।