বলিউড সুপারস্টার আমির খান তাঁর তৃতীয় বিয়ে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিহারের ফোরবেসগঞ্জে বজরং দলের কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা আমির খানের কুশপুতুল দাহ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তৃতীয় বিয়ের পর শুরু বিতর্ক
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৫ জুলাই মুম্বইয়ের বান্দ্রায় স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে সম্পন্ন করেন আমির খান। অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের খবর প্রকাশের পর বিহারের ফোরবেসগঞ্জে বজরং দলের কর্মীরা বিক্ষোভে নামেন। প্রতিবাদকারীরা কুশপুতুল দাহ করেন এবং অভিনেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর একাধিক আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
আমির খানের বৈবাহিক জীবন
- ১৯৮৬: রীনা দত্তকে বিয়ে; ২০০২ সালে বিচ্ছেদ।
- ২০০৫: পরিচালক কিরণ রাওকে বিয়ে; ২০২১ সালে পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদ।
- ২০২৬: গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তৃতীয় বিয়ে।
বজরং দলের অভিযোগ
প্রতিবাদকারীদের দাবি, আমির খান বারবার হিন্দু নারীদের বিয়ে করছেন এবং তারা এটিকে ‘লাভ জেহাদ’-এর সঙ্গে যুক্ত করে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা আদালতের রায় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
আমির খানের প্রতিক্রিয়া
এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আমির খান বা তাঁর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বজরং দলের বিক্ষোভ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তি আইন অনুযায়ী স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে করতে পারেন। আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দেখা গেলেও, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণ প্রয়োজন।
ঘটনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আবারও আন্তঃধর্মীয় বিয়ে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় রাজনীতি এবং সামাজিক মেরুকরণের বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।
