ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বাহরাইন ও কুয়েত, দাবি WSJ-এর

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েত সম্প্রতি ইরানের অভ্যন্তরে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।

WSJ-এর প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে পরিচালিত অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে বাহরাইন ও কুয়েতের এটি প্রথম প্রত্যক্ষ সামরিক প্রতিশোধমূলক অভিযান হতে পারে।

ইউএইর সহায়তার দাবিও উঠে এসেছে

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা এবং সামরিক সমন্বয়ে দেশটির ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউএই একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় কয়েকটি আরব দেশ সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করছে বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন।

এখনও মেলেনি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া

বাহরাইন, কুয়েত কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত—কোনো দেশই এখন পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবির সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। একইভাবে ইরানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

ফলে বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।