ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক হিন্দু নারীকে অপহরণ করে তিনদিন একটি ভবনে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইমন মিয়া (২৪) উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বিদেশে কর্মরত এবং তাদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর জিডি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই সকালে পাশের একটি বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই নারী নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনদিন পর উদ্ধার
স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিনদিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার নবীনগর সদরের সমবায় মার্কেট সংলগ্ন একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ
মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, ৮ জুলাই শাহপুর এলাকায় ফেরার পথে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে অচেতন করে একটি ভবনের কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তিনদিন ধরে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আটকে রাখার সময় তাকে খাবার দেওয়া হলেও তিনি কেবল পানি পান করেছিলেন।
থানায় মামলা
ঘটনার পর শনিবার রাতে নবীনগর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা (ভিপি মারুফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ঘটনাটি অপহরণ ও ধর্ষণ নাকি অন্য কোনো বিষয়—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ যা বলছে
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো মামলার এজাহার, স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়।
