দিল্লি পুলিশের বিস্ফোরক দাবি: যন্তরমন্তরের বিক্ষোভে ৯৮৯ জনের অপরাধমূলক রেকর্ড শনাক্ত

নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তরমন্তরে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভকে ঘিরে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভস্থল ও আশপাশে উপস্থিত মোট ২ হাজার ৮৭৩ জনের পরিচয় ফেস রিকগনিশন সিস্টেম (FRS) ও অন্যান্য এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী অপরাধের পরিসংখ্যান

দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। পুলিশের দাবি অনুযায়ী তালিকাটি হলো:

  • খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত – ১০১ জন
  • খুনের চেষ্টার অভিযোগ – ৬২ জন
  • ধর্ষণের অভিযোগ – ৬১ জন
  • নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ – ২৫ জন
  • পকসো (POCSO) আইনের মামলা – ৬ জন
  • চুরি, ডাকাতি ও লুটের অভিযোগ – ২৮৪ জন
  • অস্ত্র আইনের মামলা – ২২৯ জন
  • ছিনতাইয়ের অভিযোগ – ১৩৫ জন
  • মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (NDPS) আইনের মামলা – ৬৭ জন
  • অপহরণের অভিযোগ – ১৯ জন

পুলিশের দাবি, অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। খুনের মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুই বা তার বেশি মামলা এবং কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

এআই নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তরমন্তর এলাকায় স্থাপিত এআই-সক্ষম সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি এবং মোবাইল সার্ভেইল্যান্স ইউনিটের মাধ্যমে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ অপরাধীদের ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে কিছু ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ২০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য এবং ৬৫ জন বিক্ষোভকারী আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিক্ষোভের পটভূমি

এই আন্দোলনটি একটি জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি বৃহত্তর জনসমর্থন পায় এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সরকার পরবর্তীতে কিছু দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও, পুলিশের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন

এআই-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে আদালতেও আইনি চ্যালেঞ্জ দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তদন্তে সহায়তা এবং পরিচিত অপরাধীদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

তদন্ত এখনও চলমান

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিল্লি পুলিশের দাবি ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সবগুলোই আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষ পুলিশের কিছু দাবির বিরোধিতা করেছে। ফলে পুরো বিষয়টি এখনও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।