হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে প্রবাসে থাকা এক ব্যক্তির স্ত্রীকে ঘিরে সন্তান জন্মের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নারী এবং তার পরিবার এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নবজাতকের জন্ম হয়েছে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই রাতে ওই নারীর প্রসববেদনা ওঠার খবর পেয়ে তার জা আক্তার বানু এবং প্রতিবেশী রুজি আক্তার ও ফাইজুন্নাহার সেখানে যান। তাদের দাবি, ওই রাতেই তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। পরে নবজাতককে নিয়ে তিনি নিজের বাবার বাড়ি লাখাই উপজেলার নকলাউক গ্রামে চলে যান।
আক্তার বানুর ভাষ্য, ঘরে প্রবেশের পর তিনি নবজাতকের কান্না শুনেছেন এবং একটি ছেলে শিশুকে দেখেছেন। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিবেশী রুজি আক্তার ও ফাইজুন্নাহার। ফাইজুন্নাহার দাবি করেন, তিনি নবজাতককে কোলে নিয়েও ছিলেন।
সন্তান জন্মের অভিযোগ অস্বীকার স্ত্রীর
অভিযুক্ত নারী খাদিজা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো সন্তানের জন্ম দেননি। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং ওই রাতে একটি রক্তের পিণ্ড বের হয়েছে, যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
খাদিজার বাবা ফজলুর রহমানও মেয়ের সন্তান প্রসবের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, ঘটনাটি নিয়ে যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
শ্বশুর ও জনপ্রতিনিধির বক্তব্য
খাদিজার শ্বশুর আব্দুর রশিদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে এটি পারিবারিক বিষয় উল্লেখ করে এ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ঘটনাটি তার কানে এসেছে। তবে তিনি এখনো সরেজমিনে তদন্ত বা যাচাই করেননি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
থানায় এখনো অভিযোগ হয়নি
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সন্তান জন্মের পর নবজাতকের অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যাচাই না হওয়া তথ্য নিয়ে সতর্কতা
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এটি অভিযোগ ও পাল্টা দাবির পর্যায়েই রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।
