রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’? বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে এক নারীর করা অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় একটি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে গভীর রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

নারীর অভিযোগ কী?

অভিযোগকারী নারীর দাবি, তিনি বর্তমানে শিবপুর উপজেলার বান্দারদিয়া এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাঁকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন এবং এর বিনিময়ে একটি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতেও একই ধরনের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বিভিন্ন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে আশরাফ উদ্দিন আকন্দ বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, কয়েক মাস আগে তাঁর পা ভেঙে যাওয়ায় এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তাই অভিযোগে বর্ণিত সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী তাঁর এলাকার ভোটার নন। ঈদের সময় সরকারি সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হলেও তা দিতে না পারায় পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

দলীয় প্রতিক্রিয়া

শিবপুর পৌর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযোগটি যদি মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

প্রশাসনের অবস্থান

শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগকারী মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিবপুর থানা পুলিশও জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান অবস্থা

এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা প্রশাসনিক তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি।