ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। ভুক্তভোগী বর্তমানে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গভীর রাতে জানালা ভেঙে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তার মা ও চাচা ফরিদপুর শহরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরী তার ছোট ভাই ও ছোট বোনের সঙ্গে অবস্থান করছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। প্রথমে তারা দরজা খুলতে চাপ সৃষ্টি করে। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় অভিযুক্তরা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ভয়ভীতি ও হামলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাশের গ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। দীর্ঘ সময় নির্যাতনের পর কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ধাওয়ায় আটক দুইজন
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধভাবে ধাওয়া দিয়ে মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে আটক করেন। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক দুজন হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৮)। পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মায়ের আকুতি
ভুক্তভোগীর মা বলেন, শাশুড়ির অপারেশনের জন্য তিনি হাসপাতালে ছিলেন। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তার দাবি, জানালা ভেঙে মেয়েকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর হাতে আটক দুইজন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে বর্ণিত ধর্ষণ ও অন্যান্য অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিরা আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।
