সাংবাদিকতা না করেই ‘সম্পাদক’ পরিচয়? বিউটি রানীকে অপদস্থের অভিযোগে আলোচনায় হিরণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রচার, সাইবার বুলিং এবং মানহানিকর উপস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শিক্ষিকা বিউটি রানীকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আসিফ ইকবাল হিরণের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভিডিও তার অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে একটি ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সংবাদধর্মী উপস্থাপনায় প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও শিক্ষিকাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিউটি রানীর দাবি, ভিডিওটি প্রকাশের আগে তার কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সেটি অপসারণ করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরেও এই ঘটনা ঘটতে পারে।

এআই ভয়েসওভার ও সংবাদ উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিওটি এআই ভয়েসওভার ব্যবহার করে সংবাদ আকারে প্রকাশ করা হয়। সেখানে ‘সচেতন মহল’ ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও তাদের পরিচয় বা সরাসরি কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে সংবাদটির নিরপেক্ষতা ও তথ্যের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা।

এ ছাড়া আরেকটি পোস্টে সাধারণভাবে হাঁটার একটি ভিডিওকে ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, যাচাইযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়া এমন উপস্থাপনা একজন ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সাংবাদিকতার পরিচয় নিয়েও আলোচনা

প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, আসিফ ইকবাল হিরণ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে একটি ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার পেশাগত সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বা স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমে কাজ করার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সাংবাদিক দাবি করেছেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পেছনে স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরও ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।

ভিডিও অপসারণের পরও চলছে আলোচনা

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এরই মধ্যে ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষিকার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

আইন ও সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও ব্যক্তিগত কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ, সম্পাদনা বা প্রচার করা এবং এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে তার সম্মানহানি ঘটে, তা পরিস্থিতিভেদে গোপনীয়তা লঙ্ঘন, সাইবার বুলিং বা মানহানির প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আদালতের।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় আসিফ ইকবাল হিরণের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।