সীমান্তে ‘সুড়সুড়ি’ দিচ্ছে ভারত, সরকার নীরব— রংপুরে শফিকুর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রংপুরের সমাবেশে কী বললেন শফিকুর রহমান?

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিভিন্ন ঘটনার পরও সরকার দৃশ্যমান কোনো শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না। তিনি বলেন, সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও সরকার নীরব রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণ নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেও সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত ‘পুশ-ইন’সহ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য জানিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিরোধী দলগুলো প্রায়ই এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রংপুরের এই বক্তব্যও সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সংলাপ, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর পথ। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের অবস্থান

প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছে এবং বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক নেতার প্রকাশ্য বক্তব্য সংবাদমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট বক্তার নিজস্ব মতামত। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।