ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংসে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। দেশটির সরকারের দাবি, এই অভিযানে প্রায় ৭০০ টন বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রকৌশলভিত্তিক সামরিক অপারেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধ্বংস করা টানেল নেটওয়ার্কটি বহু বছর ধরে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইসরায়েলের দাবি, উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জনবসতিকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
বিউফোর্ট রিজে বড় সামরিক অভিযান
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালিয়ে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর প্রকৌশল ইউনিটের সহায়তায় টানেলগুলোতে বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে একই এলাকার কিছু অংশে সীমিত পরিসরে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ সম্প্রতি একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে আইডিএফের একটি চালকবিহীন বুলডোজারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যদিও ওই ঘটনায় কোনো সেনা হতাহত হয়নি, তবুও এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ বন্ধ করতে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টানেলের ভেতরে কী পাওয়া গেছে?
আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, বিউফোর্ট ক্যাসলের কাছে অবস্থিত এই ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা ছিল। সেখানে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ, রান্নাঘর, স্নানাগার, অপারেশন কক্ষ এবং অস্ত্র সংরক্ষণের স্থান পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযান চলাকালে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র, গ্রেনেড, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করার দাবিও করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
সামরিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৭০০ টন বিস্ফোরকের ব্যবহার থেকে ধারণা করা যায় যে টানেল নেটওয়ার্কটি ছিল অত্যন্ত গভীর ও বিস্তৃত। এ ধরনের স্থাপনা ধ্বংস করতে দীর্ঘ পরিকল্পনা, প্রকৌশল সহায়তা এবং স্থলবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হয়।
আইডিএফ আরও জানিয়েছে, আলি তাহের রিজ এলাকার নিচে আরেকটি বড় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সেখানে হিজবুল্লাহ সদস্যদের উপস্থিতির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি
এই অভিযানের বিষয়ে হিজবুল্লাহ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক তৎপরতা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
