দুই সেনা নিহতের পর পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযান শুরু ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় আকারের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে দেশটির সরকার অভিযান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও শরণার্থী শিবিরে তল্লাশি, অভিযান এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের অংশ হিসেবে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংঘর্ষের পর অভিযান আরও তীব্র

নাবলুসের কাছে সাম্প্রতিক বন্দুকযুদ্ধে দুই ইসরাইলি সেনা ও চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর পরই ইসরাইলি সরকার নিরাপত্তা অভিযান আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দেয়। সেনাবাহিনীর দাবি, সম্ভাব্য নতুন হামলা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ

সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েকটি গ্রামে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে এবং ধর্মীয় স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুসরা এলাকায় অবস্থিত আল-রাহমা মসজিদে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে উসকানিমূলক স্লোগানও লিখে যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার এবং সহিংসতার কারণে পশ্চিম তীরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বিভিন্ন পক্ষ বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উত্তেজনা কমানো এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।