ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার এই সমর্থনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, শুধু ফুটবল নয়।
পডকাস্টে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থনের কথা জানান নেতানিয়াহু
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অংশ নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো নিয়মিত অনুসরণ করছেন। আলোচনার এক পর্যায়ে লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ উঠলেও তিনি প্রথমেই প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের নাম উল্লেখ করেন এবং তাকে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেন।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, মিলেইয়ের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হয়।
আর্জেন্টিনা দল নিয়েও প্রশংসা
রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলেরও প্রশংসা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, বর্তমান আর্জেন্টিনা দল অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম।
মেসিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ
আলোচনার সময় ২০১৫ সালে বার্সেলোনার ইসরায়েল সফরের একটি স্মৃতিও তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, সে সময় ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে লিওনেল মেসির আন্তরিক আচরণ তাকে মুগ্ধ করেছিল। মাঠের বাইরেও মেসির মানবিক দিক তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
কেন আলোচনায় এই সমর্থন?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ফলে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি নেতানিয়াহুর সমর্থনকে অনেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
ভাইরাল ছবির সত্যতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নেতানিয়াহুকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে স্টেডিয়ামে দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলোর যাচাইয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি এবং বাস্তব নয়।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমর্থন প্রায়ই কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ফুটবল একই আলোচনায় উঠে এসেছে।
