মালয়েশিয়ায় ইসরায়েলিদের জন্য ‘কোনো জায়গা নেই’, ফরেস্ট সিটি বিতর্কে কঠোর বার্তা আনোয়ার ইব্রাহিমের

কুয়ালালামপুর, ১৭ জুলাই ২০২৬: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, দেশটিতে কোনো ইসরায়েলি নাগরিক শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি জোহরের ফরেস্ট সিটি প্রকল্পকে ঘিরে ইসরায়েলি নাগরিকদের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের পর তিনি সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে এবং ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে দেশটির অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতেও এই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়।

ফরেস্ট সিটি বিতর্ক কী?

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবিকে কেন্দ্র করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, নেটওয়ার্ক স্কুল (Network School) নামে একটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কমিউনিটিতে কিছু ব্যক্তি দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে ইসরায়েলি নাগরিকও থাকতে পারেন বলে দাবি করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত সরকারি প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি তদন্তে কী জানা গেছে?

জোহর রাজ্য সরকারের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভিবাসন বিভাগ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। বিশেষ অভিযানে ফরেস্ট সিটিতে অবস্থানরত ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট ও অভিবাসন নথি যাচাই করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে সবার নথিপত্র বৈধ পাওয়া গেছে। তবে পরিচয় গোপন, দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার বা অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম কী বলেছেন?

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং জাতীয় নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। তিনি জানান, তদন্তে যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিক শনাক্ত হন, তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"আমরা যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিককে খুঁজে পাই, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ মালয়েশিয়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না।"

ফরেস্ট সিটির গুরুত্ব

ফরেস্ট সিটি মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে অবস্থিত একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রকল্প, যা সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে পরিচিত। সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজরে এসেছে।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিন-সমর্থক পররাষ্ট্রনীতিরই ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে সরকার জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন নীতি এবং বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছে।

তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।