এমবাপের ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে! প্যারাগুয়ের সিনেটরের মামলার হুমকিতে তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের হারের পর শুরু হওয়া বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিয়েছে। বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এবার ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের বিরুদ্ধে মানহানি ও অপবাদের অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তার আইনজীবীর দাবি, প্যারাগুয়ের আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এমবাপের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এমবাপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের চিন্তা

সিনেটর সেলেস্তে আমারিলার আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস জানিয়েছেন, এমবাপে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তার ভিত্তিতে প্যারাগুয়ের আদালতে মানহানি ও অপবাদের মামলা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম Le Parisien-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অভিযোগ আদালত গ্রহণ করলে প্যারাগুয়ের আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মামলাটি আদালত গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যেভাবে শুরু হয় বিতর্ক

বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যখন সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা কিলিয়ান এমবাপের জাতীয়তা ও পরিচয় নিয়ে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এসব মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং অনেকেই এগুলোকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দেন।

এর জবাবে এমবাপে বলেন, আমারিলা একজন ‘জঘন্য নারী’ এবং তিনি ‘নিজের পদের অযোগ্য’। এই মন্তব্যের পরই সিনেটরের পক্ষ থেকে পাল্টা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

ফ্রান্সে তদন্ত চলছে

এদিকে ফ্রান্সে আমারিলার মন্তব্য নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে দেখা হচ্ছে, তিনি জাতিগত পরিচয়, জাতীয়তা, বর্ণ বা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবমাননা করেছেন কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন।

সিনেটরের অবস্থান

আমারিলা নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তার আইনজীবীর দাবি, তিনি প্যারাগুয়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ নাগরিক ও জাতীয় দলের সমর্থক হিসেবে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন। তাই তার বক্তব্য বাকস্বাধীনতার আওতায় পড়ে।

আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রয়োজন হলে এমবাপেকেও প্যারাগুয়ের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

দুই দেশের প্রতিক্রিয়া

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ প্রকাশ্যে এমবাপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা বলেছেন, সিনেটর সেলেস্তে আমারিলার মন্তব্য দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতি বা মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এমবাপের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি। সিনেটরের আইনজীবী জানিয়েছেন, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা ফ্রান্সে চলমান তদন্তের ফলাফল এবং প্যারাগুয়ের আইনি পরামর্শের ওপর নির্ভর করবে। ফলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিষয়টি এই মুহূর্তে কেবল সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তির আইনি ব্যাখ্যা, নিশ্চিত কোনো রায় নয়।