প্যারিসে ছুরি হামলা: তিন নারী আহত, একজন অন্তঃসত্ত্বা; সন্দেহভাজনের দাবি ‘আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন’

প্যারিস, ২৮ জুলাই ২০২৬: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রকাশ্য রাস্তায় ছুরি হামলার ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। হামলার পর স্থানীয় পথচারী এবং দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা মিলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেন। গ্রেপ্তারের সময় ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ‘আল্লাহর নির্দেশে’ এই হামলা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সোমবার দুপুরের দিকে প্যারিসের ১৭তম অ্যারোন্ডিসমাঁর পোর্ত দ্য ক্লিশি এলাকায় ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে ব্যস্ত সড়কে উপস্থিত নারীদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান।

আহত তিন নারীর বয়স যথাক্রমে ১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তাদের জীবন শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিরাপত্তার স্বার্থে আহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আহতদের একজন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। হামলার পরপরই জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর উপস্থিত পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে সন্দেহভাজনকে ঘিরে ফেলেন। এক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি সুটকেস ছুড়ে তার হাতে থাকা ছুরি ফেলে দিতে সক্ষম হন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় কয়েকজন মিলে তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজনের বক্তব্য ছিল অসংলগ্ন। তিনি নিজের পরিচয় সম্পর্কে একটি নাম উল্লেখ করলেও তা সরকারি নথির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখনও ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না। তদন্তে হামলাকারীর মানসিক অবস্থা, সম্ভাব্য ধর্মীয় প্রেরণা এবং অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলটি প্যারিসের একটি ব্যস্ত এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় হামলার পরপরই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, হামলাকারী মূলত নারীদের লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনও চলমান।

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে ছুরি হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনায় হামলাকারীরা ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিষয়ও সামনে এসেছে। সর্বশেষ এই ঘটনার ক্ষেত্রেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করছে না ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।