স্পেনের নাটকীয় ২-১ জয়, বেলজিয়ামকে বিদায় করে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে লা রোজা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে অপরাজিত থেকেই সেমিফাইনালে উঠল স্পেন, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল ফ্রান্স।

প্রথমার্ধে স্পেনের দাপট, রুইজের গোলে এগিয়ে যাওয়া

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। ধারাবাহিক চাপের ফল আসে ৩০তম মিনিটে। দানি অলমোর নেওয়া শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ঠেকালেও ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি ফাবিয়ান রুইজ। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

গোলের পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্পেন। তবে কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা।

ডি কেটেলায়ারের গোলে ম্যাচে ফেরে বেলজিয়াম

প্রথমার্ধের শেষদিকে ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলায়ারের দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে দলটি। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে স্পেন।

এর মধ্যেই ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তার পরিবর্তে দায়িত্ব নেন সেনে ল্যামেন্স।

শেষ মুহূর্তে মেরিনোর গোলেই সেমিফাইনালের টিকিট

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একাধিক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে ৮৮তম মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

স্পেনের আক্রমণ থেকে নেওয়া একটি শট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন বদলি গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। সেই সুযোগে মিকেল মেরিনো দ্রুত বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে লা রোজা।

স্পেনের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেন আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে আসছে। মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি অলমোর নিয়ন্ত্রণ, সঙ্গে লামিনে ইয়ামালের গতিময় ফুটবল দলটিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেদ্রিকে বিশ্রাম দিয়ে রুইজকে শুরুর একাদশে রাখার সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে।

অপরাজিত থেকে শেষ চারে ওঠায় বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে স্পেনকে।

লড়াই করেও বিদায় বেলজিয়ামের

ইনজুরি সমস্যার মধ্যেও বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে। কেভিন ডি ব্রুইনের নেতৃত্বে দলটি ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। তবে গোলরক্ষকের একটি ভুল শেষ পর্যন্ত তাদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

এবার ফ্রান্সের বিপক্ষে মহারণ

কোয়ার্টার ফাইনালের এই জয় স্পেনকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। সেমিফাইনালে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ফ্রান্স। ইউরোপের দুই পরাশক্তির এই লড়াইকে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

স্পেন যদি একই ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তাহলে দীর্ঘদিন পর আবারও বিশ্বকাপ শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে লা রোজা।