উজবেকিস্তানে অধ্যয়নরত ভারতের কেরালার ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাভারিয়া বসন্তের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সহপাঠীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে উঠে এসেছে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তদন্ত শেষ হয়নি এবং কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি।
কী ঘটেছিল?
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সাভারিয়া বসন্ত ও তাঁর এক সহপাঠীর মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় পুলিশ পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
ধর্মান্তরের চাপের অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী দাবি করেছেন যে ঘটনার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাভারিয়াকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এতে সম্মতি না দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ময়নাতদন্তে যা জানা গেছে
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে। তদন্তকারীরা ফরেনসিক প্রতিবেদন, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবারের দাবি
সাভারিয়ার পরিবার চায়, ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভারতের দূতাবাসের নজরে বিষয়টি
ভারতের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছেও ঘটনাটি জানানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পরিবার আশা করছে, কূটনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত এগিয়ে যাবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে।
তদন্ত এখনো চলমান
ধর্মান্তরের চাপ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ—কোনটি এই মৃত্যুর মূল কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
