অন্ধ্রপ্রদেশ: স্ত্রী ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশের এক ইঞ্জিনিয়ারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে উঠে এসেছে রাইফেল শুটিং কোচ শেখ সাদিক খানের নাম। পরিবারের পক্ষ থেকে রেখে যাওয়া একটি কথিত সুইসাইড নোটে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাতে থিলাপুরি নুকারাজু, তাঁর স্ত্রী মীনা এবং মেয়ে সৌজন্য গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা ১০ বছরের এক শিশুকে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নুকারাজু, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যু হয়।
সুইসাইড নোট ঘিরে তদন্ত
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া কথিত সুইসাইড নোট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে। সেখানে রাইফেল শুটিং কোচ শেখ সাদিক খানকে পরিবারের এই পরিণতির জন্য দায়ী করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নুকারাজু পরিবারের সঙ্গে সাদিক খানের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। পরিবারের এক সদস্য যে স্কুলে পড়াশোনা করত, সেখানে সাদিক রাইফেল শুটিং কোচ হিসেবে কাজ করতেন। তবে তাঁদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কী কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
ধর্মান্তরণের অভিযোগ
ঘটনাটির পর ধর্মান্তরণের ভয় দেখানোসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে আপাতত তদন্তাধীন বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের প্রাক্তন সাংসদ বিজয়সাই রেড্ডি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পেছনে একটি সংগঠিত চক্রের ভূমিকা থাকতে পারে এবং বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের অভিযোগ
বিজয়সাই রেড্ডির বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাদিক খান একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। ওই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারী সংস্থার হাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরই এসব দাবির সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মেরঠ থেকে গ্রেপ্তার সাদিক খান
ঘটনার পর সাদিক খান আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশির পর উত্তরপ্রদেশের মেরঠ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীরা সাদিক খানের যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, ফোন রেকর্ড এবং তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কথিত সুইসাইড নোটের সত্যতা ও তাতে থাকা অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তে এখন যে প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—নুকারাজু পরিবারের সঙ্গে সাদিক খানের প্রকৃত সম্পর্ক কী ছিল, কেন পরিবারটি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল এবং সুইসাইড নোটে ওঠা অভিযোগের পেছনে বাস্তব কোনো ঘটনা ছিল কি না। পাশাপাশি ধর্মান্তরণ ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য স্পষ্ট হতে পারে।
