বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কেন ভোটার সংখ্যা ৩৪৯?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হলেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। সংসদের ৩০০টি সাধারণ আসন এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে মোট ৩৫০ জন সদস্য ভোটার হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে একটি আসন শূন্য থাকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় ওই আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ফলে ওই আসনের প্রতিনিধির ভোটাধিকার কার্যকর হচ্ছে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল
- মনোনয়নপত্র জমা: ১৩ আগস্ট (সকাল ১০টা–বিকেল ৪টা)
- যাচাই-বাছাই: ১৬ আগস্ট
- প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ১৮ আগস্ট (বিকেল ৪টা পর্যন্ত)
- ভোটগ্রহণ: ২০ আগস্ট (দুপুর ২টা–বিকেল ৫টা)
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
কেন এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর স্পিকার বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়ম
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরাই ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন এবং প্রত্যেক সংসদ সদস্য একটি করে ভোট প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হিসেবে থাকতে হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বর্তমান সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অবস্থান বিবেচনায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হবে।
