জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ, অতিরিক্ত ডিজেল দেওয়ার অনুরোধ বিবেচনায় ভারত

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করেছে ঢাকা। বাংলাদেশের এই অনুরোধ বর্তমানে বিবেচনা করছে ভারত। তবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের জ্বালানি মজুত, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিশোধন সক্ষমতা পর্যালোচনা করবে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত

দুই দেশের বিদ্যমান চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে আসছে ভারত। বিশেষ করে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনও দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

তবে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব বাজারের চাহিদা ও পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

জ্বালানি সংকটে বাড়তি সরবরাহের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের অনিশ্চয়তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ডিজেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অতিরিক্ত সরবরাহের বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে ঢাকার।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও বাড়ছে গুরুত্ব

জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে।

ভারতীয় পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সফর নিয়ে কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়ার বিষয়টি এখন ভারতের বিবেচনায় রয়েছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, মজুত ও পরিশোধন সক্ষমতা পর্যালোচনা করার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ কতটা দ্রুত নিশ্চিত করা যায়, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন।