উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিচে শিবলিঙ্গ বা শিবমন্দির থাকার দাবি তুলে এবার গঙ্গাজল নিয়ে দেওবন্দে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হিন্দু রক্ষা দল।
হিন্দু রক্ষা দলের উত্তরাখণ্ডের সভাপতি ললিত শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জানান, সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা হরিদ্বার থেকে গঙ্গাজল নিয়ে দেওবন্দের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
দারুল উলুমের নিচে শিবলিঙ্গের দাবি
হিন্দু রক্ষা দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান স্থাপনার নিচে একটি শিবলিঙ্গ বা প্রাচীন শিবমন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে। সংগঠনটি এ দাবি যাচাই করতে প্রশাসনের কাছে তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার দাবিও জানিয়েছে।
তবে দারুল উলুম দেওবন্দের নিচে শিবলিঙ্গ বা শিবমন্দির থাকার দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত হিন্দু রক্ষা দলের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
গঙ্গাজল নিয়ে দেওবন্দে যাওয়ার ঘোষণা
সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কথিত শিবলিঙ্গের অস্তিত্ব নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত না করা হলে তারা হরিদ্বার থেকে গঙ্গাজল নিয়ে দেওবন্দে যাবেন। সেখানে গঙ্গাজল দিয়ে জলাভিষেক করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় ললিত শর্মা সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দেওবন্দ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতের অন্যতম পরিচিত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নতুন কোনো দাবি বা কর্মসূচি সহজেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। গঙ্গাজল নিয়ে সেখানে যাওয়ার ঘোষণার পর বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় দেওবন্দে সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের দাবি
হিন্দু রক্ষা দলের দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঐতিহাসিক নথি, প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য এবং প্রয়োজন হলে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো স্থাপনার নিচে প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা থাকার দাবি যাচাই না করে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে বিবেচনা করা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।
তাই দেওবন্দের দারুল উলুমকে ঘিরে শিবলিঙ্গের দাবি, গঙ্গাজল নিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
