ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির দায়িত্ব: এরদোয়ান

আঙ্কারা: ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সমর্থনকে সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের, সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

বুধবার আঙ্কারায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো শুধু কোনো একটি দেশ বা গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়; এটি মানবতা ও ন্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব।

ফিলিস্তিনের প্রতি তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে

এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ফিলিস্তিন সংকটকে শুধু আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে নয়, বরং মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নেতানিয়াহু সরকারের কঠোর সমালোচনা

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের ভূমি দখল, বসতি সম্প্রসারণ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বলেন, এসব পদক্ষেপ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে।

এরদোয়ান ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন।

১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এরদোয়ান আবারও বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আঙ্কারা কাজ করে যাবে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গাজা পুনর্গঠনেও তুরস্কের গুরুত্ব

বৈঠকে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ও পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এরদোয়ান।

তুরস্কের অবস্থান অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠনকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্নও জড়িত।

পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে উদ্বেগ

পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার নিয়ে চলমান বিরোধের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আল-আকসা মসজিদ নিয়ে সতর্ক অবস্থান

আল-আকসা মসজিদ ও জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলো নিয়েও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন এরদোয়ান। এসব স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এরদোয়ান ও মাহমুদ আব্বাসের বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বৈঠকের মাধ্যমে আঙ্কারা ও রামাল্লা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাদের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আপডেট পেতে Republic71bd.com-এর সঙ্গে থাকুন।