গাইবান্ধা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। নাম সংকীর্তনের অনুষ্ঠানস্থলে হারিয়ে যাওয়া এক মুসলিম শিশুকে নিরাপদে আশ্রয় দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার পৌর শহরের আরজী খুলশী ব্রিজপাড়া এলাকায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হিন্দু নাম সংকীর্তনের শেষ দিনের অনুষ্ঠান শেষে একটি ছোট্ট শিশুকে দীর্ঘ সময় একা ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয়রা। শিশুটির সঙ্গে কোনো অভিভাবক না থাকায় উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেন এবং আশপাশে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ শুরু করেন।
পরিবারের সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ শিশুটিকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করে এবং অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সদস্যদের সহায়তায় স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে শিশুটির পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয়।
শিশুটির কপালে থাকা একটি বিশেষ চিহ্নের কারণে প্রথমদিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সে হিন্দু পরিবারের সন্তান হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির ছবি প্রকাশের পর তার স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিশুটির নাম মোছা. সানজিদা আক্তার মিথিলা। প্রায় আড়াই বছর বয়সী মিথিলা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গোয়ালপাড়া (পারগয়ড়া) গ্রামের বাসিন্দা মতিন মিয়ার মেয়ে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শিশুটিকে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, শিশুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অসাবধানতাবশত শিশুটি হারিয়ে যায়।
স্থানীয়দের মতে, শিশুটিকে উদ্ধার করার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সম্পূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিবারের সন্ধান বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সচেতন মহলের অভিমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল উদাহরণ। এই ধরনের মানবিক ঘটনা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।
