সিলেটের গোয়াইনঘাটে ভাতিজার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার পর কলিমুল্লাহ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৬ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কলিমুল্লাহর মেয়েকে তাঁর বড় ভাইয়ের ছেলে ধর্ষণ করেছেন—এমন অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মামলা করেন। ওই মামলার পর থেকেই পরিবারটির মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর হত্যার অভিযোগ
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ফিরে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে কলিমুল্লাহর ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশ চাইলে তা ঠেকাতে পারত। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ড পুলিশের সামনে ঘটেনি। খবর পেয়ে পুলিশ পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে কলিমুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ফিরে যাওয়ার কিছু সময় পরই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণের অভিযোগও তদন্তাধীন
কলিমুল্লাহর মেয়েকে ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তের বিষয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়।
একই সঙ্গে কলিমুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, হামলার প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে।
