ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় মোতায়েন থাকা ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ বিষয়ে ইসরাইলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে হামাসের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতে হবে। তিনি বলেন, হামাসের হাতে অস্ত্র থাকা অবস্থায় সেনা প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনও হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চললেও ইসরাইল নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব এলেও সেটি ইসরাইল গ্রহণ করেনি। পরিবর্তে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংশোধিত মতামত পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ইসরাইল কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
গাজায় ইসরাইলের নিরাপত্তা কৌশল
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের জনগণ, সীমান্ত এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হামাসের অস্ত্রভাণ্ডার, টানেল নেটওয়ার্ক এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করাই বর্তমান অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন।
চলমান কূটনৈতিক আলোচনা
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় গাজা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে।
তবে ইসরাইলের অবস্থান ভিন্ন। দেশটি বলছে, হামাসের সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর সর্বশেষ এই অবস্থান গাজা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একদিকে ইসরাইল নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্যদিকে হামাস ও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী ধাপে ধাপে সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজায় ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কতটা অগ্রসর হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ভবিষ্যতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।
