পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ৫৫০ একর জমি দখল করে নিলো ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল সালফিত প্রদেশের মারদা এলাকায় প্রায় ৫৫০ একর ফিলিস্তিনি জমি দখলের নির্দেশ দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের বসতি স্থাপন ও প্রাচীর-প্রতিরোধ বিষয়ক কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে জারি করা নতুন আদেশের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২২৪ দুনাম জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মূল তথ্য: সালফিতের মারদা এলাকায় প্রায় ৫৫০ একর জমি দখলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কমিশন জানিয়েছে।

সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা

ফিলিস্তিনি কমিশনের দাবি, দখলের আওতায় থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি টাওয়ার বা যোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই এলাকা থেকে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে বলেও কমিশন জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের চলাচল ও ভূমি ব্যবহারের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ তৈরি হতে পারে।

জুলাইয়েও ৩১টি সামরিক আদেশ

ফিলিস্তিনের সংশ্লিষ্ট কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ৩১টি নতুন সামরিক আদেশ জারি করা হয়েছে। এসব আদেশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ফিলিস্তিনি জমি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সামরিক প্রয়োজনকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে জমি নিয়ন্ত্রণের এই প্রক্রিয়া পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ও সংশ্লিষ্ট সড়ক অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলি দখলের অধীনে রয়েছে। অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি ভূমি ব্যবহারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বসতি ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার সঙ্গে একমত নয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে নতুন করে জমি নিয়ন্ত্রণের ঘটনা শুধু ভূমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নয়; এর সঙ্গে বসতি সম্প্রসারণ, সামরিক নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

মারদা এলাকার সর্বশেষ ভূমি দখলের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত আদেশটির দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য ও প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সতর্কতার দাবি রাখে।

নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত ভূমি দখল ও সামরিক আদেশসংক্রান্ত তথ্য ফিলিস্তিনি সংশ্লিষ্ট কমিশনের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।