কাশিয়ানীতে দুই শিক্ষার্থীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, প্রধান অভিযুক্ত নয়ন গোলদার আটক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন গোলদারকে আটক করেছে। আলোচিত এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পটভূমি

গত ২৮ জুলাই উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথর উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ও স্থানীয় এক তরুণকে বিদ্যালয়ের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আগের দিন ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে দুজনকে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ দেখা গেছে—এমন অভিযোগ তুলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভিডিও ভাইরালের পর ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী বিষপান করেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এ ঘটনায় নয়ন গোলদার, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর আগে নয়ন গোলদার দাবি করেছিলেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই দুজনকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাদের বিদ্যালয়ে এনে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

প্রধান অভিযুক্ত আটক

পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন গোলদারকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিদ্যালয় ও পুলিশের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ সরকার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

কাশিয়ানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।