কাঠমান্ডু, ২৭ আগস্ট ২০২৬: নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালের রসুয়া জেলাসহ আশপাশের এলাকায় প্রবল জলপ্রবাহ, কাদা ও পাথরের স্রোতে বহু বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ১৬৫ জন এবং তিব্বতে ৩ জনসহ মোট অন্তত ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
নেপালে মৃত ১৬৫, নিখোঁজ ৮২৬
নেপালের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুর্যোগের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশটিতে ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দার পাশাপাশি পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
এর আগে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৫৭৯ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছিল। উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তকরণের অগ্রগতির সঙ্গে এসব সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন
নেপালের নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত তালিকায় সংখ্যার পার্থক্য থাকায় জাতীয়তাভিত্তিক নিখোঁজের সংখ্যা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকদের একটি বড় অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের পরিচয় যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসেবে না দেখাই নিরাপদ।
তিব্বতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি
নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতেও ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হেনেছে। সেখানে ৩ জনের মৃত্যু এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নেপাল ও তিব্বত—দুই অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীর পানি, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতেও উদ্ধারকারীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
হেলিকপ্টারে চলছে উদ্ধার অভিযান
দুর্যোগের পর নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর কারণে অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিব্বতের গিরং এলাকাতেও উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নেপালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৫ লাখ ডলার সহায়তা
ভয়াবহ এই মানবিক সংকটে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি দুর্গত মানুষের জন্য ৫ লাখ মার্কিন ডলার জরুরি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই সহায়তা জরুরি ত্রাণ, আশ্রয়, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য মানবিক প্রয়োজন মেটাতে কাজে লাগানো হবে।
মৃত ও নিখোঁজের সর্বশেষ হিসাব
- নেপালে মৃত: ১৬৫ জন
- তিব্বতে মৃত: ৩ জন
- দুই অঞ্চলে মোট মৃত: অন্তত ১৬৮ জন
- নেপালে নিখোঁজ: ৮২৬ জন
- তিব্বতের গিরংয়ে নিখোঁজ: ৫৫৮ জন
- দুই অঞ্চলে মোট নিখোঁজ: প্রায় ১,৩৮৪ জন
- নেপালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পর্যটক: ৫৭৯ জন
- নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে বিদেশি: ৪০০ জনের বেশি
- যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা: ৫ লাখ মার্কিন ডলার
উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন জীবিতদের দ্রুত শনাক্ত ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
