পদ্মায় ভাসছিল শাখা-নূপুর পরা নারীর মরদেহ, পরিচয় নিয়ে রহস্য

ফরিদপুরের পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। মরদেহটির দুই হাতে শাখা-চুড়ি, বাঁ হাতে ট্যাটু এবং দুই পায়ে নূপুর পাওয়া গেছে। এসব আলামতকে পরিচয় শনাক্তের সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে এখনো ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীতে স্থানীয়রা মরদেহটি ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান বিপুল জানান, নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তাকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি প্রশাসনকে অবহিত করলে নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটির গলা থেকে নাভি পর্যন্ত সেলাইয়ের দাগ রয়েছে। এছাড়া দুই হাতে শাখা-চুড়ি, বাঁ হাতে সনাতন ধর্মসংক্রান্ত একটি ট্যাটু এবং দুই পায়ে নূপুর দেখা গেছে। গলার অংশেও আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কয়েক দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ জানায়, মরদেহের আঙুলগুলো পচে যাওয়ার পাশাপাশি মাছের ক্ষতির কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই অন্যান্য আলামত ও তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নারীটির পরিচয়, মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মরদেহ পদ্মা নদীতে পৌঁছেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরের সর্বশেষ খবর, পদ্মা নদীর খবর এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।