সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমিজমা লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রবাসী ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, সৌদি আরবে থাকা ছেলে ইসমাইল হোসেন বাবাকে হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠান। আর সেই টাকা ব্যবহার করে খুনি ভাড়া করে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী হোসনা বেগমের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর বৃদ্ধের মরদেহে কিছু অস্বাভাবিক চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ। বিশেষ করে তাঁর গলায় দাগ ও মুখে রক্তের চিহ্ন থাকায় স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে হোসনা বেগম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, জমিজমা লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত ইসমাইল হোসেন বাবাকে হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর তাঁর স্ত্রী হোসনা বেগম কথিতভাবে খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধই মূল কারণ কি না, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং প্রবাসী ছেলের ভূমিকা কতটা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।
