শ্রীনগরে হিন্দু খামারির বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো ‘দেশ ছাড়’ হুমকি, তদন্তে পুলিশ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার একটি হিন্দু পরিবারের বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিরকুটে প্রাণনাশের হুমকি ও দেশ ছাড়ার বার্তা থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে একটি পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট দেখতে পান ভুক্তভোগী সনজিদ ঘোষের স্ত্রী। প্যাকেটটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো একটি চিরকুট রয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, “বাঁচতে চাইলে দেশ ছাড়, নয়তো মরার জন্য প্রস্তুত হও।” বার্তাটি দেখে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান এবং পরে পুলিশকে অবহিত করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য

সনজিদ ঘোষ জানান, তার সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই এবং জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই হুমকি দিয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ঘটনার পর থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সনজিদ ঘোষ দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে গরুর খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি গবাদিপশু পালন ও দুধ বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

এলাকাজুড়ে উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চৌধুরীপাড়া এলাকায় আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তাই ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুমকির পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, চাঁদাবাজির চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

তদন্তের গুরুত্ব

আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া কিংবা দেশ ছাড়ার মতো বার্তা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো পরিবারকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি সামাজিক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।