সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘সেক্স ডাক্তার’ বা ‘যৌন ডাক্তার’ হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
তাসনিম জারার অভিযোগ, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব প্রচারণায় তাকে যৌনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে তার নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
‘সেক্স ডাক্তার’ পরিচয় নিয়ে তাসনিম জারার বক্তব্য
তাসনিম জারা একজন চিকিৎসক এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ করে আসছেন। তার প্রকাশিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কাজের মধ্যে যৌনস্বাস্থ্য নিয়েও তথ্য রয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ‘সেক্স ডাক্তার’ হিসেবে প্রচার করা তার বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচার বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
তার সঙ্গে যুক্ত ‘সহায় হেলথ’-এর ওয়েবসাইটে যৌনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয়ে তার লেখা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে নারীদের স্বাস্থ্য ও যৌনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তথ্য রয়েছে।
নাম-ছবি ব্যবহার করে ভুয়া প্রচারণার অভিযোগ
তাসনিম জারার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অনলাইন পেজ, অ্যাকাউন্ট এবং বিজ্ঞাপন চালানোর অভিযোগ এর আগেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালে তার ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পেজ থেকে অশ্লীল ধরনের ভিডিও এবং যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির প্রচারণা চালানোর অভিযোগের কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
এ ধরনের প্রচারণার ক্ষেত্রে তাসনিম জারা স্পষ্ট করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে কোনো পণ্য বা চিকিৎসাসেবা প্রচার করা হলে সেটিকে তার অনুমোদিত প্রচারণা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
২০২৫ সালের আইনি নোটিশের প্রসঙ্গ
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক ভিডিও, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধের দাবিতে একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশে তাসনিম জারা ও চিকিৎসক জাহাঙ্গীর কবিরের নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে নোটিশদাতাদের পক্ষ থেকে তাসনিম জারার নাম প্রত্যাহার করা হয়। তার বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছিলেন। তাই ওই আইনি নোটিশকে বর্তমানে তাসনিম জারার বিরুদ্ধে চলমান কোনো আইনি ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
অভিযোগের বিষয়ে সতর্কতা জরুরি
তাসনিম জারা যে ‘একটি মহল’কে অপপ্রচারের জন্য দায়ী করেছেন, সেটি তার অভিযোগ। কারা এই প্রচারণার সঙ্গে জড়িত, তাদের পরিচয় কী এবং এর পেছনে কারা অর্থায়ন করছে—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
একইভাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম বা ছবি ব্যবহার করে কোনো বিজ্ঞাপন দেখা গেলেই সেটি তার নিজের প্রচারণা—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট, বিজ্ঞাপনের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমোদনের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাসনিম জারার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, তার পেশাগত পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘সেক্স ডাক্তার’ হিসেবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
