মশাবাহিত রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে এবার প্রায় ৬ লাখ বিশেষ পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পুরুষ মশা। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না বলে এগুলো মানুষের জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে না।
বিজ্ঞানভিত্তিক এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো মশার প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত করা। ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পুরুষ মশা যখন নির্দিষ্ট স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হবে, তখন তাদের উৎপন্ন ডিম স্বাভাবিকভাবে ফুটতে পারবে না। ফলে সময়ের সঙ্গে ওই এলাকায় মশার সংখ্যা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
বিশেষ করে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রচলিত কীটনাশকের পরিবর্তে পরিবেশের ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে এমন পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাবনাও এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটি সফল হলে ভবিষ্যতে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের জৈবপ্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।
