পাকিস্তানে শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ, মাদরাসা সম্প্রসারণ ঘিরে বিতর্ক

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শতবর্ষী একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের দাবি, পাশের একটি মাদরাসার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সরকারি সংস্থা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ETPB) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ২১ আগস্ট সিরাজ গ্রামের ওই প্রাচীন মন্দিরের কাঠামো ধসে পড়ার ঘটনা সামনে আসে। মন্দিরটির বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর বলে জানিয়েছে ETPB। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মন্দিরের জমি, পাশের মাদরাসা এবং কথিত ইজারা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার মূল বিষয়:
মন্দিরটি মানুষের হাতে ভাঙা হয়েছে, নাকি ভারী বৃষ্টির কারণে পুরোনো কাঠামোটি ধসে পড়েছে—এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মাদরাসা সম্প্রসারণের অভিযোগ

পাকিস্তান মসীহা মিল্লাত পার্টি (PMMP)-এর চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা অভিযোগ করেছেন, একটি দল পরিকল্পিতভাবে মন্দিরের কাঠামো ভেঙে ফেলে এবং সেখানকার ইট, গম্বুজ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেয়।

তাঁর দাবি, মন্দিরের সংলগ্ন একটি জমি আগে একটি মাদরাসার জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারার শর্ত ভঙ্গ এবং জমি নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করার অভিযোগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেই ইজারা বাতিল করা হয়।

PMMP-এর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ইজারা বাতিলের পর কথিত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের অভিযোগ, এর পরই মন্দিরের কাঠামো ধ্বংসের ঘটনা ঘটে।

সরকারি সংস্থার বক্তব্য ভিন্ন

তবে মন্দিরটি পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ETPB)। সংস্থাটির কর্মকর্তা ইফতিখার রানার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টির কারণে দীর্ঘদিনের পুরোনো ও দুর্বল কাঠামোটি ধসে পড়েছে।

ETPB-এর দাবি, মন্দিরের নিজস্ব জমি কোনো মাদরাসাকে ইজারা দেওয়া হয়নি। সংলগ্ন জমি নিয়ে ইজারার বিষয় থাকলেও মন্দিরের মূল সম্পত্তি তার আওতার বাইরে ছিল বলে সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য।

একই সঙ্গে ETPB জানিয়েছে, শতবর্ষী স্থাপনাটির অবস্থা পর্যালোচনা করে সংস্কার বা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের দাবি

ঘটনার পর PMMP পাঞ্জাব সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণের দাবিও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় হিন্দু প্রতিনিধিরাও মন্দিরের জমি সংরক্ষণ, কথিত অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং প্রাচীন স্থাপনাটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ:

মন্দিরটি পরিকল্পিতভাবে ভাঙা হয়েছে—এটি বর্তমানে একটি অভিযোগ। বিপরীতে ETPB বলছে, ভারী বৃষ্টির কারণে জরাজীর্ণ কাঠামোটি ধসে পড়েছে। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

শতবর্ষী মন্দিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

সিরাজ গ্রামের এই ঘটনা পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। মন্দিরটি কীভাবে ধ্বংস হলো, জমি নিয়ে কোনো অবৈধ দখল বা বিরোধ ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে পাশের মাদরাসার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করে দ্রুত তদন্ত শেষ করা এবং শতবর্ষী স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।