মির্জাপুরে দুর্গামন্দিরে সাত প্রতিমা ভাঙচুর, নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি শতবর্ষী দুর্গামন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পূজামণ্ডপে থাকা দুর্গা প্রতিমার মাথাসহ মোট সাতটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দুর্বৃত্তরা। মন্দির প্রাঙ্গণে অশালীন কিছু ছবিও আঁকা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বুধবার রাতে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় অবস্থিত আর্য সমিতির দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় একশ বছর ধরে ওই মন্দিরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজাকে সামনে রেখে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিমাগুলোতে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছিল। এরপর প্রতিমাগুলো ঢেকে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে মণ্ডপ পরিষ্কার করতে গিয়ে স্থানীয়রা ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান। তাদের দাবি, দুর্গা প্রতিমার মাথা, গণেশ, অসুরসহ মোট সাতটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া পূজামণ্ডপ এলাকায় অশালীন ছবি আঁকা অবস্থায়ও পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মুস্তাফিজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদ রেজা এবং মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন।

জামুর্কী আর্য সমিতির সভাপতি প্রকাশ বাকালি বলেন, রাতের আঁধারে দুর্গাপূজার জন্য তৈরি সাতটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রায় একশ বছর ধরে এই মন্দিরে পূজা হয়ে আসছে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। তিনি প্রশাসনের কাছে পূজামণ্ডপের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মির্জাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি বিকাশ গোস্বামী জানান, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পাওয়ার পর টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মুস্তাফিজ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।